আবাসন ব্যবসা থেকে হোয়াইট হাউজে ডোনাল্ড ট্রাম্পের যাত্রা |
বর্ণনা: “২৪ অক্টোবর ২০২৪-এ লাস ভেগাসে নির্বাচনী প্রচারণায় ফিরেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি শুধু রাজনীতিবিদ নন; ব্যবসা ও টেলিভিশনের মাধ্যমে বিখ্যাত এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। আসুন জানি কীভাবে এই মানুষটি ব্যবসা থেকে রাজনীতির শীর্ষে উঠে আসলেন।”
পটভূমি এবং পরিবার
“ডোনাল্ড জন ট্রাম্পের জন্ম ১৪ জুন ১৯৪৬ সালে, নিউইয়র্ক শহরের কুইন্সে। তার মা মেরি অ্যান ছিলেন স্কটিশ বংশোদ্ভূত, আর বাবা ফ্রেড ট্রাম্প ছিলেন প্রভাবশালী আবাসন ব্যবসায়ী। বাবার হাত ধরেই ট্রাম্প ব্যবসায়িক জগতে প্রবেশ করেন এবং ১৯৭১ সালে পারিবারিক ব্যবসার প্রেসিডেন্ট হন।”
রাজনীতিতে ট্রাম্পের প্রবেশ
“রাজনীতিতে প্রবেশের আগে ট্রাম্প টেলিভিশন ও ব্যবসার মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান। ২০১৬ সালে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে সকলকে অবাক করে দিয়ে হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার কঠোর অভিবাসন নীতিমালা, দক্ষিণ সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা, এবং কিছু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ছিল অন্যতম উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।”
প্রেসিডেন্সির সময় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
“ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নীতি নতুনভাবে রূপান্তরিত হয়। সুপ্রিম কোর্টে রক্ষণশীল ভাবধারা শক্তিশালী হয়, জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন এবং চীনের সাথে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেন।”
আইনি সমস্যা এবং বিতর্ক
“ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চারটি আলাদা ফৌজদারি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে একটি পর্নো তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে অর্থ প্রদান নিয়ে। নব্বইয়ের দশকের এক মডেল সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগও এনেছেন। তবুও তার জনপ্রিয়তা মার্কিন রাজনীতিতে এখনও শক্তিশালী।”
২০২৪ সালের হত্যাচেষ্টা
“চলতি বছরে ট্রাম্পের ওপর দু’বার হত্যাচেষ্টা চালানো হয়। জুলাইয়ে পেনসিলভানিয়ায় এক সমাবেশে তার ওপর ছাদ থেকে গুলি চালানো হয়, যা তার কানে লাগে এবং এক সমর্থক নিহত হন। পরের ঘটনা ঘটে ফ্লোরিডায়, যেখানে গলফ খেলার সময় একজন বন্দুকধারী তাকে গুলি করতে চাইলে সিক্রেট সার্ভিস তাকে নিরস্ত করে।”
ট্রাম্পের পরিবার এবং উত্তরাধিকার
“ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জীবনও আলোচনায় থেকেছে। তার তিন স্ত্রী এবং পাঁচ সন্তান রয়েছে। মেলানিয়ার সাথে তার কনিষ্ঠ সন্তান ব্যারন। মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্পের প্রভাব এবং উত্তরাধিকার এখনো শক্তিশালী।”
আবাসন ব্যবসা থেকে রিয়েলিটি টিভি
“১৯৮০-এর দশকে নিউইয়র্কে বড় বড় প্রকল্প হাতে নেন ট্রাম্প। ২০০০-এর দশকে ‘দ্য অ্যাপ্রেনটিস’ শো’র মাধ্যমে সবার ঘরে পৌঁছে যান তিনি, যা তার তারকাখ্যাতিকে আরও বাড়িয়ে দেয় এবং তাকে রাজনীতির পথে নিয়ে আসে। তার এই যাত্রা মার্কিন সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে।”
“২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে হারলেও ২০২৪ সালে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ট্রাম্প। যদি তিনি নির্বাচিত হন, তবে ৮২ বছর বয়সে মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা ছাড়বেন। আবাসন ব্যবসা থেকে হোয়াইট হাউজ, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই যাত্রা মার্কিন ইতিহাসে অমলিন হয়ে থাকবে। তার পরবর্তী পথ কী, সেটি কেবল সময়ই বলে দেবে।”









0 Comments