১১ দলীয় জোট ছাড়লো ইসলামী আন্দোলন: ২৬৮ আসনে একলা চলার ঘোষণা|
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা


জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েন এবং রাজনৈতিক আদর্শিক দ্বিমত পোষণ করে জোট ছাড়ার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। একইসঙ্গে আসন্ন নির্বাচনে ২৬৮টি আসনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা জানিয়েছে তারা।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর পুরানা পল্টনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দলের এই অবস্থানের কথা জানান যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান।

আসন বণ্টন ও সমঝোতার ব্যর্থতা

বৃহস্পতিবার জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ২৫৩ আসনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হলেও সেখানে ইসলামী আন্দোলনের কোনো প্রার্থীর নাম ছিল না। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলন শুরুতে ৮০টি আসনে সমঝোতা চেয়েছিল। এ নিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের মধ্যস্থতায় আলোচনা চললেও জোটের পক্ষ থেকে ৪৫টি আসনের প্রস্তাব দেওয়া হয়, যা শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।

‘তলে তলে সমঝোতা’ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা

সংবাদ সম্মেলনে গাজী আতাউর রহমান অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে জামায়াত আমিরের বৈঠক এবং জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তিনি বলেন:

"আমাদের সঙ্গে ঐক্য করে তলে তলে অন্য কিছু হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী তাদের মৌলিক স্লোগান থেকে সরে গিয়ে এখন ক্ষমতাকেই মুখ্য মনে করছে। একটি পাতানো নির্বাচন হতে যাচ্ছে কি না, সেই শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।"

‘ওয়ান বক্স পলিসি’ থেকে বিচ্যুতি

ইসলামপন্থি দলগুলোর ভোট এক বাক্সে আনার লক্ষ্যে ‘ওয়ান বক্স পলিসি’ নিয়ে এই মোর্চা গঠিত হয়েছিল। তবে জোটের মধ্যে ধর্মভিত্তিক দল নয় এমন শরিকদের (যেমন- এনসিপি, এলডিপি) অন্তর্ভুক্তিতে শুরু থেকেই অসন্তোষ ছিল ইসলামী আন্দোলনের। দলটির দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইসলামপন্থি ঐক্যকে পাশ কাটিয়ে ভিন্ন পথে হাঁটা শুরু করেছে জোটের বড় অংশটি।

একক নির্বাচনের প্রস্তুতি

ইসলামী আন্দোলন জানিয়েছে, তারা ২৭০টি আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছিল, যার মধ্যে ২৬৮টি বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

  • একক প্রার্থী: ২৬৮টি আসনেই লাঙ্গল প্রতীক (বা দলীয় প্রতীক) নিয়ে লড়বেন প্রার্থীরা।

  • বাকি ৩২ আসন: যেসব আসনে প্রার্থী নেই, সেখানে যোগ্য প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়ার কথা ভাবছে দলটি।

  • মূল লক্ষ্য: প্রচলিত আইন পরিবর্তন করে ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার যে মৌলিক লক্ষ্য, তা থেকে বিচ্যুত না হওয়া।

পটভূমি

গত জুলাই থেকে বিভিন্ন সংস্কার ও আন্দোলনের দাবিতে এই মোর্চা সক্রিয় থাকলেও তফসিল ঘোষণার পর আসন ভাগাভাগি নিয়ে ফাটল ধরে। বৃহস্পতিবার আইডিইবি মিলনায়তনে জামায়াতের সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের অনুপস্থিতিই জোট ভাঙার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিল। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সেই বিচ্ছেদ সম্পন্ন হলো।




Post a Comment

0 Comments

//]]>